Dakshineswar Kali Temple | দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ি পূজা দেয়ার নির্দিষ্ট সময়

4

Dakshineswar Kali Temple  দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ি কলকাতার উত্তরে গঙ্গা (হুগলি) নদীর তীরে অবস্থিত বিখ্যাত কালীমন্দির। ভারতবর্ষের কালী সাধনার  সিদ্ধ পিঠের মধ্যে অন্যতম ও  প্রসিদ্ধ মন্দির।

জেলা উত্তর চব্বিশ পরগনার কামারহাটি শহরের অন্তঃপাতী দক্ষিণেশ্বর নামক স্থানে এটি অবস্থিত।

কলকাতার জানবাজারের প্রসিদ্ধ মানবদরদি জমিদার রানি রাসমণি এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন ১৮৫৫ সালে।

দেবী কালীকে এই মন্দিরে “ভবতারিণী” নামে পূজা করা হয়। বিশিষ্ট যোগী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব এই মন্দিরে কালী সাধনা করতেন।

কথিত আছে, রাসমণি কালীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই নবরত্ন মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।

রামকৃষ্ণ পরমহংসের দাদা রামকুমার চট্টোপাধ্যায় ছিলেন মন্দিরের প্রথম প্রধান পুরোহিত।

রামকৃষ্ণ পরমহংসের দাদা রামকুমার চট্টোপাধ্যায় ছিলেন মন্দিরের প্রথম প্রধান পুরোহিত। পড়ে রামকৃষ্ণ পরমহংস এই মন্দিরের পূজার ভার গ্রহণ করেন।

মূল মন্দিরে পূজা দেয়ার নির্দিষ্ট সময়:

অক্টোবর মাস থেকে মার্চ মাস অবধি সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২.৩০ পর্যন্ত। এবং বিকেল  ৩টে থেকে পূজা দেয়া শুরুহয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত মন্দির খোলা থাকে পূজার জন্য ।

এপ্রিল মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস অবধি সকালে ৬টা থেকে দুপুর ১২.৩০ অবধি। এবং বিকেলে ৩টে থেকে পূজা শুরু হয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত মন্দির খোলা থাকে দর্শনার্থীদের পূজা দেবার জন্য।

মন্দির চত্বরের বাইরে ২০০রও  বেশি পূজা ঘর পূজার স্টল আছে যেখানে  থেকে  আপনি পূজার ডালি কিনে পূজা  দিতে পারবেন।

পুজার উপকরণঃ Dakshineswar Kali Temple

মন্দির চত্বরের বাইরে ২০০রও  বেশি পূজা ঘর পূজার স্টল আছে যেখানে  থেকে  আপনি পূজার ডালি কিনে পূজা  দিতে পারবেন।

এছাড়াও মন্দির চত্বরের বাইরে এবং স্কাই ওয়াক এর মধ্যেও আপনি বিভিন্ন ধর্মীয় উপকরণ এর স্টল পাবেন। যেখান থেকে আপনি কালী মা এর বাঁধানো ছবি, মূর্তি ও অন্যান্য জিনিস কিনতে পারে।

মন্দির পরিচিতিঃ Dakshineswar Kali Temple

দক্ষিণেশ্বর মন্দির  চত্বরে কালীমন্দির ছাড়াও একাধিক দেবদেবীর মন্দির ও  অবস্থিত আছে। মূল মন্দিরটি নবরত্ন মন্দির মূল মন্দির ছাড়াও রয়েছে “দ্বাদশ শিবমন্দির” নামে পরিচিত বারোটি আটচালা শিবমন্দির।

মন্দিরের উত্তরে রয়েছে “শ্রীশ্রী রাধাকান্ত মন্দির” নামে পরিচিত রাধাকৃষ্ণ মন্দির এবং মন্দিরের দক্ষিণে রয়েছে একটি নাটমন্দির। মন্দির চত্বরের উত্তর-পশ্চিম কোণে রয়েছে রামকৃষ্ণ পরমহংসের বাসগৃহ। মূল মন্দির চত্বরের বাইরে রামকৃষ্ণ পরমহংস ও পরিবারবর্গের স্মৃতিবিজড়িত আরও কয়েকটি স্থান, যা আজ পুণ্যার্থীদের কাছে ধর্মস্থানরূপে বিবেচিত হয়।

মন্দির ইতিহাসঃ Dakshineswar Kali Temple

বিধবা রানি রাসমণি দেবী অন্নপূর্ণাকে পূজার মানসে কাশীতে তীর্থযাত্রার আয়োজন করেন ১৮৪৭ সালে।

নৌকায় আত্মীয়স্বজন, দাসদাসী ও রসদ নিয়ে তিনি রওয়ানা হওয়ার সব আয়োজন সম্পন্ন করেন । কিংবদন্তি অনুসারে যাত্রার পূর্বরাত্রে রানি রাসমণি কালীর স্বপ্নদর্শন পান।

কাশী যাওয়ার প্রয়োজন নেই। গঙ্গাতীরেই একটি নয়নাভিরাম মন্দিরে আমার মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পূজা কর। সেই মূর্তিতে আবির্ভূত হয়েই আমি পূজা গ্রহণ করব।

১৮৪৭ সালে রানি রাসমণির আদেশ অনুসারে এই বিরাট মন্দিরের নির্মাণকাজ শুরু হয়ে শেষ হয় ১৮৫৫ সালে।

১৮৫৫ সালের ৩১ মে স্নানযাত্রার দিন মহা ধুমধামের সাথে মন্দিরে মূর্তিপ্রতিষ্ঠা করা হয়। মন্দিরের আরাধ্যাকে মাতা ভবতারিনি কালিকা নামে অভিহিত করা হয়েছিল।

গর্ভগৃহে মহেশ্বর শিবের বক্ষোপরে ভবতারিণী নামে পরিচিত কালীমূর্তিটি প্রতিষ্ঠিত। এই মূর্তিদ্বয় একটি রুপোর সহস্রদল পদ্মের উপর স্থাপিত করা হয়েছে।


আরো পড়ুন: Eco Park Kolkata | ইকো পার্ক কলকাতার নতুন প্রকৃতিতীর্থ

4 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here